মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলার পটভূমি

 

সদর উপজেলার  ‘‘বান্দরবান ’’ নামের উৎপত্তি  সর্ম্পকে তেমন কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও সাধারণভাবে এ বান্দরবান  পাহাড় এবং বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ। ইংরেজিতে  ‘মাংকি’ এবং ‘ফরেস্ট’  এ দু’শব্দের বাংলা অর্থ বানর এবং বন - এ দু’ শব্দের  মিলনে  ‘বান্দরবান’  নামকরণ করা হয়।  উপজাতীয়দের ভাষায়  বান্দরবান শহরকে ‘ম্যাকছে’ বলে। ‘ম্যাক’ শব্দের অর্থ ‘বানর’ এবং ‘ছে’ শব্দের অর্থ ‘বাঁধ’। এ দু’শব্দে হয়-বান্দরবান   এরকম জনশ্রূতি রয়েছে। পাহাড়ের ভাঁজে প্রচুর ছড়ায় শত শত বানর আসত। এ ছড়া গুলোতে প্রচুর ছোট বড় পাথর ছিল। ঝাঁকে ঝাঁকে বানর ছড়ার পাথরের উপর দল বেঁধে বসে থাকত। এ দৃশ্য বানরের বাঁধ হিসেবে পরিচিতি পায়। সকলের মুখে এ ধ্বনির পরিবর্তীত রূপ হয়- ‘‘ বান্দরবান ’’। এভাবে  কালের বিবর্তনে এবং  ধ্বনি পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থানটি বান্দরবান নামে অভিহিত হয়।

 

উপজেলা রূপে আবির্ভাব

বৃটিশ শাসন আমলে ১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে জেলা ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন সময়ে বান্দরবান পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার অধীন ছিলো। ক্যাপ্টেন মাগ্রেথ ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার প্রথম সুপারিনট্যানডেন্ট। ১৮৬৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার সুপারিনট্যানডেন্ট পদটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হয় এবং ১৮৬৭ সালে এই পদটির নামকরণ করা হয় ডেপুটি কমিশনার। পার্বত্য চট্ট্রগাম জেলার প্রথাম ডেপুটি কমিশনার ছিলেন টি, এইচ লুইন। ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন অনুসারে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করা হয়-চাকমা সার্কেল, মং সার্কেল, এবং বোমাং সার্কেল। প্রত্যেক সার্কেলের জন্য একজন সার্কেল চীফ নিযুক্ত ছিলেন। বান্দরবান তৎকালীন সময়ে বোমাং সার্কেলের অর্ন্তভুক্ত ছিলো। বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার কারণে এই জেলার আদি নাম বোমাং থং।

 
বান্দরবান জেলা ১৯৫১ সালে মহকুমা হিসেবে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে। এটি রাংগামাটি জেলার প্রশাসনিক ইউনিট ছিলো। পরর্বতীতে ১৯৮১ সালের ১৮ই এপ্রিল, তৎকালিন লামা মহকুমার ভৌগলিক ও প্রশাসনিক সীমানাসহ সাতটি উপজেলার সমন্বয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। আর এরপর থেকে বান্দরবান সদর উপজেলার আবির্ভাব হয়।